শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বায়েজিদ সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ : আহ্বায়ক শাহিন সদস্য সচিব তুষার। কালের খবর সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন সেনাবাহিনীর। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় ধলিয়া খালে বিলীন বসতঘর ; প্রশাস‌নের ত্রান ‌বিতরণ। কালের খবর জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতিকে ধারণ করে ‘৩৬ জুলাই’ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। কালের খবর কাঁচা রাস্তা ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে বাঘাইহাট জোনের সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন। কালের খবর সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন? সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা। কালের খবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি নতুন ওয়ার্ডগুলোয় মশার রাজত্ব, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। কালের খবর নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের লাশ উদ্ধার। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি’র সহায়তায় সিদ্ধ চাল পেল গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীরা। কালের খবর
সনদ জাল করে কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ। কালের খবর

সনদ জাল করে কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ। কালের খবর

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) থেকে এমএম জামান, কালের খবর : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বারাংকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ে (ইআইএন নং ১০৮৬০৪) জন্ম সনদ জ্বাল করে আয়া নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসি।

এলাকাবাসির অভিযোগ, ৪-৫ বছর পূর্বে একটি ভুয়া ও বানোয়াট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটিকে পাশ কাটিয়ে মোসা. রুবিয়া বেগমের বয়স পরিবর্তন করে অবৈধ নিয়োগ প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জ্বাল সনদ দিয়ে মোসা. রুবিয়া বেগমকে এমপিওভূক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করেন। যার ইনডেক্স নং এন৫৬৮১৪৩৫৭। রুবিয়া বেগমের জন্ম তারিখ ০১.০২.১৯৭১ যা কম্পিউটারের মাধ্যমে এডিট করে ০১.০২.১৯৮৫ করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় জন্ম তারিখ পরিবর্তন করায় রুবিয়া বেগম তার নিজের মেয়ের থেকেও বয়সে ছোট হয়ে গেছে।
রুবিয়া বেগমের একটি “জাতীয় পরিচিতি বিবরণ” এ দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ০১.০২.১৯৭১। পিতার নাম জয়নাল শেখ এবং মাতার নাম রহিমা বেগম, স্বামীর নাম মো. গিয়াস উদ্দীন মিয়া। জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৪৬১৬২৮৭২৪১। ঠিকানা বারাংকুলা, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর। অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইতেও একই তথ্য পাওয়া যায়। নিয়োগ বিধিতে দেখা যায়, আয়া পদে বয়সসীমা অনুর্ধ্ব ৩৫ বছর। ভোটার তালিকায় দেখা যায়, রুবিয়ার এক মেয়ে মোসা. জাম্বিয়া বেগমের জন্ম তারিখ ০২.০১.১৯৮০, আরেক মেয়ে মোসা. স্মৃতি পারভিনের জন্ম তারিখ ০৭.১১.১৯৮৭। যেখানে এমপিও শিটে রুবিয়ার জন্ম তারিখ ০১.০২.১৯৮৫। রুবিয়া বেগম ২০২২ সালের ২ এপ্রিল এফিডেভিটের মাধ্যমে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ০১.০২.১৯৭১ এর স্থলে ০১.০২.১৯৮৫ করে। পরে এফিডেভিটের কাগজ দিয়ে ২৭.০২.২০২২ সালে নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে। ৩০.০৮.১৯৯৯ তারিখের পরিচালনা পর্ষদের সভায় রুবিয়া বেগমের নিয়োগ হলেও ২০২২ সালে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে তাকে এমপিওভূক্ত করা হয়।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে শাহানারা খানমকে জাল সনদে কম্পিউটার শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর ওই শিক্ষকের বেতনভাতা বন্ধ থাকে। ০৭.০২.২০২১ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শাহানারা খানমের জাল সনদের বিষয়টি পরিসমাপ্তি ঘটায়। এরপর তিনি বেতনভাতা ফিরে পান। কিন্ত পরবর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত জাল সনদধারী মিক্ষকদের তালিকায় তাঁর নাম এসেছে। যে তালিকা দৈনিক আমাদের বার্তা ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রকাশ করে। তালিকার ২৩ নং ক্রমিকে সাহানারা খাতুনের নাম রয়েছে।
এফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স পরিবর্তন করে চাকুরিতে নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে রুবিয়া বেগম বলেন, তার নিয়োগে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি। ভুল করে তার বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যা পওে সংশোধন করা হয়। স্কুলের নির্বাচন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে এলাকার কেউ কেউ এ অভিযোগ দিয়েছে।
কম্পিউটার শিক্ষক সাহানারা খাতুন জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর সনদ যাচাই-বাছাই করে জাল সনদের অভিযোগ অব্যহতি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমার বেতন ভাতা ফেরত পেয়েছি। পরবর্তীতে তাঁর নাম সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।
বারাংকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান অনিয়ম দুর্নীতির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে। আমি স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এতো অনিয়ম দুর্নীতি করলে এখানে থাকতে পারতাম ?
আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রতন মিয়া বলেন, যখন তাদের নিয়োগ হয়েছিল তখনতো আমি ছিলামনা। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com